সেই জের টেনে আজো খেলি সেই জের’ বলতে কীসের জের বোঝানো হয়েছে? ‘আজো খেলি’ কথাটির তাৎপর্য কী? ৩+২
সেই জের এর প্রসঙ্গ: সাধারণত পূর্বে করা কাজের রেশকেই ‘জের’ বলা হয়। কবি এখানে ‘সেই জের’ বলতে আমাদের সভ্যতার অন্ধকারের অনুগামী হওয়ার মনোবৃত্তিকে চিহ্নিত করেছেন। সৃষ্টির লগ্নে মানুষ সূর্যের পূজারী, সত্যের উপাসক হলেও সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সে ক্ষমতালোভী, স্বার্থপর হয়ে উঠল। ফলে যুদ্ধ, হত্যা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, মন্বন্তরে বিধ্বস্ত হল পৃথিবী- যা মানবসভ্যতার ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। অথচ মানুষ এরকম পরিস্থিতিতে তার শুভবুদ্ধিকে কাজে না লাগিয়ে উদাসীন, নির্বিকার হয়ে থেকেছে। মানবসভ্যতার এই কলঙ্কিত ইতিহাসের জের টেনেই সে নিশ্চিন্তভাবে জীবনযাপনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করছে। ফলে মানবসভ্যতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে চললেও আদতে তা ক্রমশ আরও সংকটাপন্ন অবস্থায় পৌঁছে যাচ্ছে।
আজো খেলি-রতাৎপর্য: কবি যখন আলোচ্য কবিতাটি লিখেছিলেন তখন বঙ্গদেশ মন্বন্তরে-মহামারি-কালোবাজারিতে বিধ্বস্ত। তবুও একশ্রেণির সুবিধাবাদী, মধ্যবিত্ত মানসিকতার মানুষ তখনও ‘খেলা’ করেছে অর্থাৎ তাদের জীবনযাপনের অভ্যস্ত রীতিতে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। পথে-প্রান্তরে মৃতদেহের সারি, লঙ্গরখানায় ক্ষুধার্ত মানুষের লম্বা লাইন তাকে পীড়িত করেনি বরং সে আরও বেশি আত্মমগ্ন থেকেছে নিজের সুখের চিন্তায়, নিজের কল্পনায়, নিজের দুঃখবিলাসিতায়- যা কবিকে মর্মাহত করেছে।