“তারার আলোর দিকে চেয়ে নিরালোক।”- ‘তারার আলো’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ‘নিরালোক’ শব্দটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো

“তারার আলোর দিকে চেয়ে নিরালোক।”- ‘তারার আলো’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ‘নিরালোক’ শব্দটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। ২+৩

তারার আলো: সূর্যের আলোকে আমরা সহজেই প্রত্যক্ষ করতে পারি, কিন্তু সূর্য ব্যতীত অন্য কোনো তারার আলো পৃথিবীর ততোটা কাছাকাছি এসে পৌঁছোয় না, পৃথিবী থেকে শত যোজন দূরে অবস্থিত নক্ষত্রদের আলো ম্লান, রহস্যময় হয়ে আমাদের চোখে ধরা দেয়। এই নক্ষত্রময় অন্ধকারাচ্ছন্ন আকাশের দিকে মৃতের মতো চোখ তুলে চেয়ে আছে স্বার্থপর, ইতিহাসবিমুখ মধ্যবিত্ত শ্রেণি। অথচ একটা সময় ছিল যখন নক্ষত্র পথভোলা পথিককে পথ দেখাত, নাবিককে দিক নির্ণয়ে সাহায্য করত। ঠিক সেভাবেই সমসময়ের অন্ধকারে পথভ্রষ্ট কবি যেন নক্ষত্রের কাছে আলোর দিশা প্রার্থনা করেছেন।

নিরালোক-এর তাৎপর্য: আলো নেই এমন অবস্থাই নিরালোক। কবি জীবনানন্দ দাশ এখানে সেই নিরালোক অবস্থার কথা বলতে চেয়েছেন যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯-১৯৪৫) এবং দুর্ভিক্ষের (১৯৪৩) করালগ্রাসে বাংলার আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল। পাঠ্য কবিতা রচনার সময় কবি এই পরিস্থিতির সম্মুখীন তো হয়েই ছিলেন তার সঙ্গে তিনি আরও লক্ষ করেছিলেন নাগরিকতার সুবিধাভোগী মধ্যবিত্ত শ্রেণির চরম উদাসীনতা। অর্থাৎ শুধু বাহ্যিক জগত নয়, মানুষের মনেও জমে উঠেছিল স্বার্থপরতার আঁধার যা কবিকে হতাশ এবং ব্যথিত করেছিল। তাই কবি সমকালীন সমাজ এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভাবলেশহীন হৃদয়ের অবস্থাকে ‘নিরালোক’ বলে বিশেষায়িত করেছেন। তিনি মানবসমাজের সকল গৌরবময় রীতিকে স্মরণ করেছেন যা বর্তমান পরিস্থিতিতে মৃতের চোখের মতো নিষ্প্রভ। কবি সেই প্রাণহীন দৃষ্টিতে জ্বালাতে চেয়েছেন জ্ঞানের আলো, আকাশভরা নক্ষত্রের কাছে প্রত্যাশা করেছেন অগ্রগতির দিশা।

Leave a Comment